গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের ব্যয় ৬,৫৭৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে নিলো আন্তবর্তী সরকার

আওয়ামী লীগ আমলে নেওয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের ব্যয় ৬,৫৭৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে নিলো বর্তমান সরকার।

প্রায় সব সংবাদ মাধ্যম মাতাবরাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরে ৬ হাজার ৫৭৩ কোটি ব্যয় টাকা বাড়ানোর খবর চেপে যায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া এই গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকা, মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্পের খরচ সামান্য বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সেখান থেকে প্রায় ৩৭ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে এখন ২৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ইউনূস সরকার। সেই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিন বছর। ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সেটি শেষ করতে চায় তারা।

এখানেই শেষ নয়, ব্যয় বাড়ানো হয়েছে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পেও।

আওয়ামী লীগ সরকার এই প্রকল্পের ব্যয় ঠিক করে রেখেছিল সর্বশেষ ১৮ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার সেখান থেকে বাড়িয়েছে ৩৭৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকায়।

কেন ব্যয় বাড়ল, তার ব্যাখ্যা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দিতে পারেননি। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ‘টেকনিক্যাল’ এবং তিনি এ বিষয়ে পুরোপুরি ‘অবগত’ নন। কোনো প্রকল্পে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বা ৩৭ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি বড় ঘটনা। কিন্তু এ বিষয়ে সংবাদ শিরোনাম করেছে হাতে গোনা দুই একটি সংবাদ মাধ্যম। প্রধান প্রধান মিডিয়ার মধ্যে কেবল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ডেইলি স্টারের শিরোনাম করেছে ‘Matarbari Deep-sea Port: Interim govt to continue the Japan-funded project: planning adviser’ অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকার জাপানি অর্থায়নের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ এগিয়ে নেবে। ব্যয় বৃদ্ধির তথ্য এই সংবাদে থাকলেও তা একেবারেই ভেতরে। আর ডেইলি স্টার বাংলায় এই সংবাদটি প্রচারই হয়নি। টিবিএসের শিরোনাম ছিল ‘একনেকে ২৪ হাজার ৪১৩ কোটি টাকায় ৪ প্রকল্প অনুমোদন’। এতেও ব্যয় বৃদ্ধির তথ্যটি ছিল না। সমকালে সংবাদটি খুঁজেই পাওয়া যায়নি। কালের কণ্ঠ শিরোনাম কমেছে ‘একনেকে ২৪ হাজার ৪১২ কোটি টাকার চার প্রকল্পের অনুমোদন’। এতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বহীনভাবে তুলে ধরা হয়েছে একেবারে নিচের দিকে।

বণিক বার্তা শিরোনাম করেছে ‘দুর্নীতি কিছুটা কমলেও চাঁদাবাজি কমেনি’। সংবাদের ভেতরে ব্যয়বৃদ্ধি বা প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই নেই। শেষ লাইনে লেখা ছিল, ‘এর আগে একনেক সভায় চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। আর সাতটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।’

সূত্র: https://bangla.bdnews24.com/economy/1f9c458de748

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

bn_BDবাংলা