জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পদে নিয়োগ

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসিমুল গনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সেবছরই হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাসিমুল গনিকে ওএসডি(বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) তার চার বছর পরে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

কিন্তু ৫ আগষ্ট ছাত্র-সেনা অভুত্থানের পরে গঠিত মুহাম্মদ ইউনূস সরকার দ্বায়িত্ব নিলে নিষিদ্ধের ১৫ বছর পরে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করে জিহাদের ঘোষণা দেয় হিজবুত তাহরীর। একইসাথে ১১ বছর পরে সরকারের অন্যতম শীর্ষ পদেও ফিরে আসেন হিযবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসিমুল গনি।

এসময় নাসিমুল গনিকে প্রথমে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের দায়িত্ব দেয় সরকার। একইসাথে তার কাজের পরিধি বাড়াতে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা সেবা বিভাগে আলাদা দুইজন সচিব থাকলে নতুুন করে একক পদ ‘স্বরাষ্ট্র সচিব’ তৈরি করে শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জঙ্গিবাদ অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান করে আসা সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল বারী বলেন, হিযবুত তাহরীর অন্যতম সংগঠক যখন স্বরাষ্ট্র সচিব!! বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরির এর সংগঠন মূলত তিনজন লোকের মাধ্যমে আত্নপ্রকাশ বিকাশ লাভ করে। এর মধ্যে অন্যতম নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

নাসিমুল গণির হিজবুত সংশ্লিষ্টতা টেনে তিনি বলেন, ঢাবিতে ছাত্র থাকা অবস্থায়ই ১৯৮০ সালে নাসিমুল গণির পরিচয় ঘটে বাংলাদেশে হিযবুত তাহরিরের গোলাম মাওলার সাথে। এরপর কায়সার শাহনেওয়াজ ও হিজবুত তাহরির বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক মহিউদ্দিনের মাধ্যমে ২০০০ সালে হিযবুত তাহরির বাংলাদেশের অফিস খোলেন।

২০০১-০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় পার্লামেন্টের স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারের একান্ত সচিবের পদ ব্যবহার করে নাসিমুল গনি হিজবুত তাহিররকে ফান্ড ম্যানেজ করে দেন। তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেন বলে দাবি করেন তিনি।

তার মতে, ঠিক এ কারণেই ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এত আগুন সন্ত্রাসের পরও হিযুবত তাহরিরের কোন সদস্যকে গ্রেফতার হয়েছে! কিন্তু তার ভয়বহনা টের পেয়ে আওয়ামী সরকার ২০০৯ এ এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে,সেই সাথে ওএসডি করে এই নাসিমুল গণিকে। ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট আওয়ামী রেজিমের ষড়যন্ত্রমূলক অপসারণের পর তাকেএখন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে!

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে দেশের অন্যতম ইংরেজি দৈনিক ডেইলী স্টার ‘Hizb ut-Tahrir leaders held over ‘militancy’ নামে প্রতিবেদনে প্রথম হিজবুত তাহরীরের জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে।

এই প্রতিবেদনে হিজবুত তাহরির বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক মহিউদ্দিনের সাথে কায়সার শাহনেওয়াজ ও নাসিমুল গনি’র পরিচয় সর্বপ্রথম গণমাধ্যমে আসে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে উঠে আসে, ২০০০ সালে কোচিং সেন্টারের নামে ধানমণ্ডি ৬/এ তে গোলাম মাওলার নেতৃত্বে দলের কার্যক্রম শুরু করে একটি অফিস নেন নাসিমুল গনি ও শাহনেওয়াজ। বাংলাদেশকে তারা ‘দার-উল-কুফ্ফার’ বা কাফেরদের দেশ বর্ণনা করে এটাকে ‘দার-উল-হারব’ বা যুদ্ধক্ষেত্রের দেশ বানানোর লক্ষ্য নেয় সংগঠনটি।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এ সংগঠনে নির্দিষ্ট কোন কমিটি ছিল না। সমন্বয়ক গোলাম মাওলার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগের অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমেদ, ঢাবি লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক শেখ তৌফিক, কাজী মোরশেদুল হক, যুগ্ম সচিব নাসিমুল গনি এবং কাউসার শাহনেওয়াজ এই সংগঠনের উচ্চতর পরিষদে কাজ শুরু করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

bn_BDবাংলা