পাকিস্তান থেকে জাহাজে দুই কন্টেইনারে আসে ‘ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক’ দ্রব্য! তথ্যফাঁস

পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে চট্টগ্রামে আসা পণ্যবাহী ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ নামের একটি জাহাজের দুটি কন্টেইনারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরক দ্রব্য এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা সন্দেহপোষণ করছেন। এই মাত্রার বিস্ফোরক বড় বড় স্থাপনা ধ্বংস্ব করতে এবং বড়মাত্রার মানুষের জীবনহানি ঘটাতে সক্ষম।

পণ্য খালাসের সময় উপস্থিত চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা থেকে সেদিনের বিস্ফোরক দ্রব্যবাহী কন্টেইনার দুইটির ছবি ও তথ্য দিয়েছেন সংগ্রহ করে বিডিফ্ল্যাশ। ভিন্ন আরেকটি গোয়েন্দা সুত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে পরিদর্শনের পর কন্টেইনার দুইটি নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা এক ঘণ্টার জন্য আটকে রাখেন। কিন্তু পরে অজ্ঞাত কারণে কন্টেইনার দুইটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরমধ্যে ডব্লিউএইচএলইউ-৪২৬১৭৯৪২জি১ নামে একটি কনটেইনারের ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে লাল বর্গের মধ্যে ‘এক্সপ্লোসিভ(বিস্ফোরক)’ লেখা।

উপস্থিত সূত্র জানায়, ২১শে ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানো ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ নামের একটি জাহাজ থেকে আনলোড হওয়া কন্টেইনারগুলো পরীক্ষা করার সময় এই বিস্ফোরক দ্রব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। কন্টেইনারগুলোতে পাওয়া গেছে ক্যাম্বোডিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানে তৈরি ‘সিসমিক ইমালশন এক্সপ্লোসিভ’, যা উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক হিসেবে পরিচিত। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কাস্টমস ও নৌবাহিনী কর্মকর্তারা কন্টেইনারগুলোর কায়িক পরীক্ষা চালান।

সেসময় পরীক্ষা চলাকালে বিস্ফোরক দ্রব্যের সন্ধান পাওয়ার পর পণ্য ডেলিভারি স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হলেও, এক ঘণ্টার মধ্যেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পণ্য খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, কন্টেইনারগুলো ক্যাম্বোডিয়া থেকে সরাসরি আসেনি, বরং পাকিস্তান থেকে আরব আমিরাত হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। কার্টনের গায়ে মুদ্রিত তথ্য অনুযায়ী, পণ্যটি ক্যাম্বোডিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত। তবে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে খুব সামান্যই তথ্য পাওয়া গেছে।

গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে পণ্যের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন নৌবাহিনী কর্মকর্তারা। গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশ এবং ছবি তোলার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এরপর দ্রুত পণ্য খালাস শেষ করে উপস্থিত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের বিস্ফোরকজাতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুসরণ করতে হয়। প্রটোকল অনুসারে, এসব পণ্য ‘ডেঞ্জারাস গুডস’ এর আওতাধীন। তাই পণ্য খালাসের পূর্বে বিশেষ অনুমতি নেওয়া ছাড়াও সতর্কাবস্থা জারি করা হয়। নির্দিষ্ট শেডে এসব পণ্য খালাস করা হয়। কিন্তু এই কনসাইনমেন্ট-এর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি। বরং তড়িঘড়ি করে পণ্য খালাসের পর স্থানটি ছেড়ে যান দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

সুত্র আরও জানিয়েছে, বিস্ফোরক দ্রব্যের একটি অংশ ইতোমধ্যে সিলেট এবং অন্যটি কেরাণীগঞ্জের উদ্দেশ্যে চলে গেছে। তবে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, এটি সেনাবাহিনী বা কোনও আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা সংস্থার জন্য ছিল না।

চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উক্ত জাহাজটি প্রধানত পরিশোধিত চিনি, খনিজ ডলোমাইট, সোডা অ্যাশ, কাপড়ের রোল, পুরোনো লোহার টুকরা এবং আখের গুড়ের মতো পণ্য নিয়ে এসেছে। জাহাজে করে পাকিস্তান ছাড়াও আরব আমিরাত থেকে খাদ্যপণ্য, লুব্রিক্যান্ট অয়েল এবং যন্ত্রাংশ এসেছে।

তবে এই বিপজ্জনক বিস্ফোরক দ্রব্যের কোনো উল্লেখ পণ্য তালিকায় ছিল না। কী উদ্দেশ্যে বা কার নির্দেশে এই বিপজ্জনক পণ্য আমদানি করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

bn_BDবাংলা