তথাকথিত “রূপপুর দুর্নীতি তদন্ত” মূলত একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং হয়রানি করার জন্য পরিকল্পিত।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যা সম্প্রতি ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক পুনর্গঠিত হয়েছে এবং সেখানে সরকারপন্থী ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (আরএনপিপি) কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগটি প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৯,০০০ কোটি টাকা) জড়িত থাকার দাবি করে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ এবং তার ভাইজি তুলিপ সিদ্দিকসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগের পেছনে কোনও বাস্তব তথ্য বা প্রমাণ নেই এবং এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অংশ, যার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে বিচার পরিচালনা করা।
দুদকের এই পদক্ষেপ এসেছে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের প্রধান ববি হাজ্জাজের হাইকোর্টে একটি রিট দায়েরের পর। অভিযোগটি ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর দৈনিক কালেরকণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল, যা আবার ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট একটি সন্দেহজনক ও অস্বচ্ছ ওয়েবসাইট “দ্য গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পোরেশন—জিডিসি”-র তথাকথিত “প্রতিবেদন”-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই তথাকথিত অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধুমাত্র জিডিসির উপর নির্ভর করছে, যা বাস্তবে সম্পূর্ণ অবিশ্বস্ত।
উল্লেখ্য, “দ্য গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পোরেশন”-এর নামের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য নিরাপত্তা সংস্থা গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প-এর নামের মিল থাকলেও এটি একেবারেই ভিন্ন এবং তা বিভ্রান্তির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটি (https://www.globaldefensecorp.com/) পরিদর্শন করলে পরিষ্কার বোঝা যায় এটি একটি শেল ওয়েবসাইট, যা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
দ্য ঢাকা ট্রিবিউনের (ডিট) একটি তদন্তে উঠে এসেছে, তথাকথিত এই “প্রতিবেদন”-এ প্রাথমিক বানান ভুল রয়েছে, যেমন “slush funds” কে “slash funds” হিসেবে লেখা হয়েছে। ওয়েবসাইটটির পেছনের উৎসও অস্বচ্ছ। ডিট তাদের তদন্তে জানিয়েছে, ওয়েবসাইটটি প্রাইভেসি প্রজেক্ট এলএলসি দ্বারা নিবন্ধিত, এবং দেওয়া ঠিকানায় কোনও “গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পোরেশন” নামে অফিসের অস্তিত্ব নেই।
এছাড়াও, রূপপুর প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জাতীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের যৌথ প্রকল্পের বিষয়ে, রোসাটম ১৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে একটি বিবৃতি দিয়ে প্রকল্পে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, এই “প্রতিবেদন” প্রকল্পটির সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং তারা তাদের সম্মান রক্ষার্থে আইনের আশ্রয় নেবে।
রোসাটমের বিবৃতি:
https://www.dailymessenger.net/country/news/25537
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রোসাটম আরও একটি বিবৃতি দিয়ে ব্যাখ্যা করেছে কেন রূপপুর প্রকল্পের খরচ ভারতের প্রকল্পের তুলনায় বেশি। জিডিসির প্রতিবেদনে ভারতে খরচের সাথে তুলনা করা হলেও এই খরচের যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
রোসাটমের ব্যাখ্যা:
https://www.tbsnews.net/bangladesh/rosatom-issues-clarification-rooppur-plant-cost-says-it-never-discloses-project-expenses#
এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের পেছনে সরকারের বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা বলে জানায় রাজনীবিদরা। বিচারকদের উপর চাপ সৃষ্টি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে এই সরকার বিভ্রান্তিমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।